কর্পোরেট সামাজিক দায়িত্ব

বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও দিন বদলের প্রচেষ্টায় এক দায়বদ্ধ কর্পোরেট নাগরিক হিসেবে বাংলালিংক তার দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রতিবছরই সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকান্ড ও পরিবেশ সংরক্ষণে বাংলালিংকের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা যায়। কর্পোরেট সামাজিক কর্মকান্ডে দৃঢ় পদচারণায় বাংলালিংক অগ্রদূত হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে। বাংলালিংক-এর সামাজিক কর্মকান্ড সংক্রান্ত উদ্যোগগুলো হলো:

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত পরিস্কার প্রকল্প এবং আন্তর্জাতিক কোস্টাল ক্লিনআপডে

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত পরিস্কার করার সকল কর্মকান্ডের সাথে বাংলালিংক ২০০৫ থেকে জড়িত। এই প্রজেক্ট-এ প্রতি বছর ২৬ জন মহিলা বছরের ৩৬৫ দিনই ২ বার করে ৩ কি.মি. সৈকতটি পরিষ্কার করে থাকে। পাশাপাশি ভারী ময়লা ও আবর্জনা সরানোর সহায়তায় ৭ জন পুরুষ সহযোগিতার জন্য নিযুক্ত করা হয়। কক্সবাজারের পরিবশে সংরক্ষণ এবং পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধের মাধ্যমে বাংলালিংক এই পথচলা সত্যিকার অর্থেই দিন বদলের প্রচেষ্টা বাস্তবায়নে এক অনন্য ধাপ। এছাড়াও, পরিদর্শনে আসা পর্যটকদের মধ্যে এই সম্পর্কে শিক্ষা এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে সচেষ্ট ভূমিকা পালন করছে এবং তাদেরকে এই দিন বদলের অনুপ্রেরণার যোগান দিয়ে আসছে। বাংলাদেশে এক অনন্য সিএসআর কর্ম হিসেবে এটিকে বিবেচনা করা হয় যা ভবিষ্যতে এই সমাজে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রেখে যাবে।

বিশেষ করে যুবকদের কাছে এ সম্পর্কে আরো সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়াসে ২০০৫ সাল থেকে বাংলালিংক এই ‘আন্তর্জাতিক কোস্টাল ক্লিনআপ ডে’-এর আয়োজন করে আসছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারের প্রখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৫০০ জন সেচ্ছাসেবী হাতে হাত মিলিয়ে সমুদ্র সৈকত পরিস্কার করায় অংশগ্রহণ করে – যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় সেচ্ছাসেবীদের প্রচেষ্টা। এই উদ্যোগের বাংলালিংক-এর সার্বক্ষণিক প্রচেষ্টা ইতিবাচক পরিবর্তন এবং পানি দূষণ রোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখা।

অনাথাশ্রমে অনুদান হিসেবে কম্বল বিতরণ

সামাজিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ও অবহেলিত শিশুদের সাহায্যার্থে ২০০৫ সাল থেকে প্রতি শীতকালে বাংলালিংক দেশের বিভিন্ন অনাথাশ্রমের শিশুদের কাছে কম্বল বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে। গত বছর দেশের ১০১টি অনাথাশ্রমের অনাথ শিশুদের মধ্যে ৫,০০০ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ এবং টাংগাইল পর্যন্ত এই বিতরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

হজ্জ্বক্যাম্পে হজ্জ্বযাত্রীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা

২০০৯ থেকে হজ্জ্ব-এ যাবার পূর্বে হজ্জ্বযাত্রীরা যেখানে মিলিত হয় বাংলালিংক সেখানে বিভিন্ন ধরণের ফ্রি সার্ভিস-এর ব্যবস্থা করে আসছে। এই সার্ভিস-এর মধ্যে আছে – হজ্জ্বযাত্রীদের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস সার্ভিস, পানি বিতরণের ব্যবস্থা, ফোন করার জন্য ফ্রি ফোনের ও ফ্রি চার্জ করার ব্যবস্থা। এগুলো ছাড়াও রযেছে – ট্রলি, দিকনির্দেশিকা, সার্ভিস-এর মাধ্যমে তথ্য এবং দ্রুত ও খুব সহজেই হজ্জ্ব-এর নিয়ম জানতে হজ্জ্ব গাইড বুকলেট।

পানি খেজুর বিতরণ এবং অনাথাশ্রমে ইফতারের ব্যবস্থা

ট্র্যাফিক জ্যামে আটকে থাকা নিরুপায় রোজাদারদের ইফতারের সুবিধার্থে ২০০৯ সাল থেকে শহরের উল্লেখযোগ্য স্থানগুলোয় বাংলালিংক পানি ও খেজুর বিতরণের ব্যবস্থা করে আসছে। এছাড়াও অনাথাশ্রমের শিশুদের জন্যও বাংলালিংক ইফতার ও রাতের খাবারের ব্যবস্থা করে আসছে। ২০১১-এ দেশজুড়ে প্রায় ৮৫,০০০ লোককে পানি ও খেজুর বিতরণ এবং ১২৩টি অনাথাশ্রমে ১২,০০০-এরও বেশি শিশুদের জন্য ইফতার ও রাতের খাবার সফলতার সাথে আয়োজন করতে পেরেছে।

অবহেলিত শিশুদের জন্য আইসিটি সাপোর্ট: কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন

সমাজ থেকে অশিক্ষার অভিশাপ দূর করতে এবং একই সাথে ভবিষ্যতের আশা জাগানো ছাত্র-ছাত্রীদের আলোকিত করে তুলতে ২০১১-এ বাংলালিংক সফলতার সাথে দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ২৭০টি অবহেলিত শিশুদের স্কুলে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করেছে। কম্পিউটার ল্যাবগুলো সাজানো হয়েছে পিসি, ইন্টারনেট মডেম, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, স্পিকার এবং মাইক্রোফোন দিয়ে। এখন, নতুনভাবে স্থাপিত এই ল্যাব তাদের দিচ্ছে আশার আলো। যদি কেউ এই কম্পিউটার ল্যাবগুলো বাংলালিংকের দিন বদলের চেষ্টারই বহিঃপ্রকাশ। গুঞ্জন মুখর। এভাবেই নতুন কিছু করার চেষ্টায় বাংলালিংক-এর এগিয়ে চলা এবং এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাংলালিংক পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।