কর্পোরেট সামাজিক দায়িত্ব

ইনকিউবেটর

বাংলালিংক-এর উদ্দেশ্য তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্যোগকে সমর্থন করে ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে উন্নীত করা। এই প্ল্যাটফর্মটি উদ্ভাবনী ডিজিটাল উদ্যোগগুলোকে সনাক্ত ও বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন সেক্টরে ১৬টি স্টার্টআপ এখানে অংশগ্রহণ করেছে।

এই কার্যক্রমটিতে সবচেয়ে সম্ভাবনাসম্পন্ন স্টার্টআপগুলো খুঁজে বের করার একটি কঠোর নির্বাচন প্রক্রিয়া আছে।

এই আইটি ইনকিউবেটর প্রকল্পটি ‘ভিওন’-এর সামাজিক প্রতিশ্রুতির একটি অংশ এবং বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস লিমিটেড বাংলাদেশে আইটি উন্নয়নে ও ডিজিটাল নেতৃত্ব গড়ায় অবিরত সহায়তা দানে অঙ্গীকারবদ্ধ।

স্টার্ট-আপ থেকে শিখুন

নিত্যনতুন উদ্ভাবনীয় আইডিয়া এবং উদ্যোক্তা মানসিকতাকে অনুপ্রাণিত করাই বাংলালিংক-এর লক্ষ্য। ক্লাসরুমের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা এবং দৈনন্দিন জীবনে এর ব্যবহারিক প্রয়োগের সম্পর্ক  প্রায়ই বোঝাতে ব্যর্থ হয়। অংশগ্রহণ বাড়ানো, অনুপ্রেরণা এবং উদ্যোগী মানসিকতা এবং মূল্যবোধ শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বাংলালিংক নিয়ে এসেছে, “স্টার্ট-আপ থেকে শিক্ষা” কার্যক্রম। এই প্রোগ্রামটি শিক্ষার্থীদের মাঝে  উদ্যোক্তা মনোভাব বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যতিক্রমী চিন্তাধারায় উদ্বুদ্ধ করে। প্রাথমিকভাবে ১৪ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমাদের প্রোগ্রামটি শুরু হবে। এখানে শিক্ষার্থীরা স্টার্ট-আপ-এর ছোট ছোট প্রকল্পে মনোনিবেশ করার মাধ্যমে উদ্যোক্তা হওয়ার পথটি অনুধাবণ করার সুযোগ পাবে, যা তাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাস্তবিক প্রয়োগ সম্পর্কে শিক্ষা প্রদান করবে।

SDG Hackathon

বাংলালিংক-এর উদ্দেশ্য উদ্ভাবনকে ক্ষমতায়ন করা এবং তরুণদের ডিজিটাল উদ্যোগের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক সমস্যার সমাধান করা। SDG Hackathon “Code for a Cause”-শীর্ষক এই প্রোগ্রামটি সেই জন্যই তৈরি। ৫টি এসডিজি নিয়ে এখানে টিমগুলো কাজ করেছিল- মানসম্পন্ন শিক্ষা, লিঙ্গসমতা, শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো, টেকসই শহর ও সম্প্রদায় এবং জলবায়ু। ১০০-এরও বেশি প্রতিযোগী টিম হিসেবে এখানে অংশগ্রহণ করেছিল।

আরও জানতে, ভিজিটঃ https://sdghackathon.banglalink.net/

স্টার্ট-আপ এক্সপো

একটি কোম্পানি হিসেবে বাংলালিংক সবসময় কার্যপরিচালনার ক্ষেত্রে উদ্ভাবনীয় এবং গতানুগতিক ধারার বাইরে কাজ করাকে প্রাধান্য দেয়। এই এক্সপো আয়োজনের মাধ্যমে বাংলালিংক নিত্যনতুন উদ্ভাবনের ব্যাপারে কর্মকর্তাদের আগ্রহ বাড়াতে সাহায্য করে। এই প্রোগ্রামটি উদ্বোধন করেন, বাংলালিংক-এর CEO এরিক আস এবং বাংলালিংক-এর CXO প্রোগ্রামটি স্পন্সর করে। শীর্ষ ছয়টি টিম তাদের জীবন পাল্টে দেওয়া দুর্দান্ত আইডিয়াগুলো উপস্থাপন করে। আরও তুলে ধরেন তাদের সাফল্যের পুরো যাত্রা। তারা সবার সামনে তাদের পণ্যের প্রোটোটাইপগুলো বেটা টেস্টের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন। এছাড়াও সেখানে ফান সেশন, কুইজ সেশন এবং সকলের জন্য ইন্টারেক্টিভ সেশনও ছিল। কর্মীদের মধ্যে উদ্ভাবনের চমক সৃষ্টি করার জন্য পণ্য প্রদর্শনী স্টলও রাখা হয়েছিল।

হোয়াইট পেপারঃ ডিজিটাল অন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ ইকোসিস্টেম

VEON-দ্বারা কমিশনপ্রাপ্ত তৃণমূল রিসার্চগুলো রাশিয়া, ইউক্রেন, আলজেরিয়া, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন ডিজিটাল ইন্টারপ্রেন্রিয়াল মাধ্যমগুলোতে তুলে ধরা হয়েছে। ইন্টারনেট এবং স্মার্টফোনের ব্যবহার, প্রতিভাবান আইসিটি, নিয়মনীতি, গ্রাহক বেস, শিক্ষা এবং বিনিয়োগসহ অনেক ফ্যাক্টরের উপর লক্ষ্য রেখে প্রতিটি ইকোসিস্টেম বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। এই রিসার্চগুলো ডিজিটাল অন্ট্রাপ্রেনিউর ইকোসিস্টেম-এ মোবাইল অপারেটরদের ভূমিকা তুলে ধরে।

এই স্টাডির অংশ হিসেবে, কনসাল্টেন্ট এটি কিয়ারনি ভিওন-এর সিনিয়র ম্যানেজার, মার্কেট স্টেকহোল্ডার, উদ্যোক্তা, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিজনেস স্কুল, বিনিয়োগকারী, অ্যাক্সেলেটরস, আইসিটি কর্পোরেশনস এবং সরকারি মুখপাত্রদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন।

হোয়াইট পেপার ডাউনলোড করে জেনে নিন কীভাবে বাংলাদেশ বিশ্বমানের ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে পারেঃ Download Here..

ডিজিগিক মিট-আপ

বাংলালিংক আয়োজিত ডিজিগিক মিট-আপ প্রোগ্রামটি তরুণ ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের শিক্ষা এবং অনুপ্রেরণা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ করার সুযোগ করে দেয়। এটি সম্ভাবনীয় তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য নেটওয়ার্কিং এবং শেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত, দুইশ-এর ও অধিক উদ্যোক্তারা এই মিট-আপ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করে। এই নেটওয়ার্কিং শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মটি সহযোদ্ধা উদ্যোক্তা, মেন্টর এবং অন্যান্য সহকর্মীদের সময় কাটানোর পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে শেখার একটি দারুণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে থাকে।

ডিজিটাল স্বাক্ষরতা

বাংলালিংক-এর সাফল্যের অন্যতম সহজ লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যঃ “জনসাধারণের মাঝে মোবাইল ফোনের ব্যবহার বাড়ানো”। গ্রাহক সন্তুষ্টির সাথে বাংলালিংক-এর মূল ফোকাস হচ্ছে, গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ, যোগাযোগ ও পরিচালনা করার মাধ্যমগুলো ডিজিটালাইজেশন করা। ডিজিটাল স্বাক্ষরতা প্রোগ্রামটি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় জেলায় পরিচালনা করা হচ্ছে। গঠনগতভাবে, এই প্রোগ্রামটি দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেলস্‌ পয়েন্টগুলোতে পরিচালনা করা হচ্ছে।  

প্রায় তিন হাজার দুইশ সেলস্‌ সার্ভিস এক্সিকিউটিভ অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে এই ট্রেইনিং প্রোগ্রামটি পরিচালনা করছেন। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে এই পর্যন্ত প্রায় এক লক্ষ বিশ হাজার গ্রাহককে ট্রেইনিং দেওয়া হয়েছে। প্রায় পঁচাশি হাজার নন-ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর মাঝে প্রায় ছত্রিশ হাজার গ্রাহককে এখন প্রাত্যহিক ইন্টারনেট ব্যবহার করা শুরু করেছে। এভাবেই সফল হয় এই প্রোগ্রামটি।

গ্রাহকরা গুগল, ফেইসবুক, উইকিপিডিয়া, ইউটিউবসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমগুলো ব্যবহারের উপকারিতা সম্পর্কে জানতে পারে। এছাড়াও, গ্রাহকদের বাংলালিংক সেলফ কেয়ার ব্যবহার বিষয়েও ট্রেইনিং দেওয়া হয়। প্রশিক্ষিত দলটি সেলফ কেয়ারে নিবন্ধন করার পরে যে তথ্যগুলো পেয়েছে সেগুলো ব্যবহার করে ডিজিটাল পণ্য পরীক্ষা করার কাজে অংশ নিয়েছে।  গ্রাহকের সাথে যোগাযোগ করাই এই প্রোগ্রামের প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল। যেহেতু প্রাতিষ্ঠানিক উপায়ে এই প্রোগ্রামটি পরিচালনা করা সম্ভব নয়, তাই বাংলালিংক GSMA-এর সাথে চুক্তি স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার উপকরণগুলো গ্রাহকের পছন্দ অনুযায়ী বিতরণ করা হয়। 

দুর্যোগের ত্রাণ ও জরুরি প্রতিক্রিয়া

সারা দেশে বেশ কয়েকটি ত্রাণ বিতরণের উদ্যোগে অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করার কাজে বাংলালিংক সক্রিয়ভাবে জড়িত।

বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস লিমিটেড, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহযোগিতায় ২০১৭ সালের জুন মাসে বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি অঞ্চলের ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য ত্রাণ বিতরণ সম্পন্ন করেছে।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বন্যাদুর্গত এলাকায় দুর্যোগের ত্রাণ বিতরণে বাংলালিংক জড়িত ছিল। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাথে মিলে বাংলালিংক ৫ হাজার বন্যাকবলিত এবং বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

বিনামূল্যে সরকারি সাইট

দেশকে ডিজিটাল করে তোলার অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ও বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল উন্নয়নের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলালিংক এবার সকল গ্রাহকদের জন্য বিনামূল্যে উন্মুক্ত করে দিয়েছে ২৫ হাজারেরও বেশি সরকারি ওয়েবসাইট, যার ফলে বিভিন্ন সরকারি সাইটসমূহ থেকে তারা নিতে পারছে বিভিন্ন ডিজিটাল নাগরিক সুবিধা। এই উদ্যোগের ফলে সকল জনসাধারণের নাগালে আসবে তথ্য, আর প্রযুক্তি বঞ্চিত ও উপভোগকারী জনগণের মাঝে তৈরি হবে এক ডিজিটাল সেতুবন্ধন। তার কারণ হলো, বাংলালিংক গ্রাহকগণ এখন সহজেই ভিজিট করতে পারবে বিভিন্ন সরকারি সাইট, অনলাইনে আবেদন করতে পারবে বিভিন্ন সরকারি ও নাগরিক সেবার জন্য আর ডাউনলোড করে নিতে পারবে পাঠ্যপুস্তকসহ বিভিন্ন ফর্ম ও প্রকাশনা।

ন্যাশনাল হ্যাকাথন

বাংলালিংক 'ন্যাশনাল হ্যাকাথন’-এর গর্বিত স্পন্সর। দেশের সবচেয়ে বড় এই প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা তরুণ প্রোগ্রামারদের প্রতিভা উন্মোচনের জন্য গড়ছে এক শক্ত ভিত্তি আর তাদেরকে নিয়ে যাচ্ছে বিশ্বমানের প্রোগ্রামিং চিত্রের আরও কাছে। ২৪০ জনেরও বেশি প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেছিল এই পর্বে আর এসডিজি হ্যাকাথনের জন্য নির্বাচিত হয়েছিল ২৭টি দল (৭১ জন)। টানা ২৪ ঘন্টার কঠিন কোডিং শেষে বিশেষজ্ঞ আইটি এক্সপার্ট ও বাংলালিংক-এর উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা নিয়ে তৈরি জাজ প্যানেল প্রস্তাবিত প্রকল্প ও নকশা পর্যালোচনা করে সেরা ৩টি দলকে বিজয়ী ঘোষণা করে। নিজেদের প্রস্তাবিত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা এবং কর্মপরিধি মূল্যায়নের পরে বিজয়ীরা বাংলালিংক থেকে অংশীদারিত্বের সুযোগ পাবে

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য ICT সাপোর্টঃ কম্পিউটার ল্যাব সেট আপ

নিরক্ষরতার অভিশাপ সমাজ থেকে দূর করতে এবং শিক্ষার আলোয় নতুন প্রজন্মকে আলোকিত করতে ২০১১ সালে বাংলালিংক সফলভাবে ২৭০টি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য নির্মিত স্কুলে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করে। কম্পিউটার ল্যাবগুলো পিসি, ল্যাপটপ, ইন্টারনেট মডেম, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, স্পিকার এবং মাইক্রোফোন দ্বারা সজ্জিত। এখন, নতুন প্রতিষ্ঠিত কম্পিউটার ল্যাবগুলো তাদের জীবনে আশার আলো হয়ে আছে। যে কেউ এই ল্যাবগুলোতে ঘুরে তাদের জীবন এবং চারপাশের আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারবে। এবং এভাবেই বাংলালিংক দেশ এবং জাতিকে “ডিজিটাল বাংলাদেশ” হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।